মঞ্চের আলোর নিচে মাইক্রোফোনে গাইছেন তাসরিফ খান।
  • কুঁড়েঘরের গায়ক ও গীতিকার।
  • মঞ্চের বাইরেও চেনা মুখ।
  • নিজের অভিজ্ঞতার লেখক।

শুরু করতে স্ক্রল করুন

শুরু হোক একটি গান দিয়ে।

হেডফোন কানে, স্টুডিওর মাইক্রোফোনে রেকর্ড করছেন তাসরিফ খান।

একটি ঘর, একটি মাইক, আর যে-ই শুনছিল। একা বসে শোনা থেকে ভিড়ের সঙ্গে গলা মেলানো।

রোদেলা লনে কুঁড়েঘরের ইউটিউব গোল্ড প্লে বাটন হাতে আটজন।দশ লাখ সাবস্ক্রাইবার পেরোনোয় কুঁড়েঘরকে দেওয়া গোল্ড প্লে বাটন হাতে।

কুঁড়েঘর তাদের গান রেখেছিল এমন জায়গায়, যেখানে যে কেউ খুঁজে পায় — আর মানুষ খুঁজে পেয়েছিল। ২০২০ সালে চ্যানেলটি সেই সীমা পেরোয়, যার জন্য ইউটিউব গোল্ড বাটন দেয়।

The Daily Star, ৩ অক্টোবর ২০২০
গাছের নিচে, খোলা জায়গায় কুঁড়েঘরের সদস্যদের সঙ্গে তাসরিফ খান।নদীর ধারের রাস্তায় কুঁড়েঘরের সেলফি, ক্যামেরার পেছনে জনা বারো গাদাগাদি করে।ভ্যানের পেছনে ঠাসাঠাসি করে কুঁড়েঘরের সেলফি।ঝুলন্ত বাতির নিচে এক ক্যাফেতে সেলফির ফ্রেমে গাদাগাদি কুঁড়েঘর।ভেজা রাস্তার ধারে কুঁড়েঘরের সেলফি, ক্যামেরার পেছনে ছড়িয়ে দাঁড়ানো দলটি।ক্যাম্পসাইটে গাছের মাঝে কুঁড়েঘর, ক্যামেরার জন্য হাতে থুতনি রেখে।ফুলে ভরা গাছের নিচে কুঁড়েঘরের সেলফি, বেশির ভাগের চোখে সানগ্লাস।

কুঁড়েঘর গড়ে উঠেছিল একসঙ্গে, একজনের হাতে নয় — আর তেমনই রয়ে গেছে: ভ্যানে, পথে, এক সেলফিতে গাদাগাদি করে সেই একই মুখগুলো। প্রতিটি গান বেরোয় আগে ব্যান্ডের নামে, তারপর কারও নিজের নামে।

গানগুলো যেখানে।

তারপর গানগুলো পথে নামল।

যে গান এখনো লেখা হচ্ছে, তার ভেতর দিয়ে যেভাবে হাঁটা, সেভাবেই হেঁটে পেরোনো জায়গাগুলো।

বান্দরবান

01বান্দরবান

বান্দরবান

02রাঙামাটি

সাজেক ভ্যালি

03কক্সবাজার

কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন

তাইতো আইলাম সাগরে · কুঁড়েঘর

04খুলনা

সুন্দরবন

প্রথমবার সুন্দরবন ভ্রমণ · তাসরিফ খান

05শরীয়তপুর

শরীয়তপুর

গানে গানে শরীয়তপুর ভ্রমণ · কুঁড়েঘর

পথের শুরু ঘর থেকে। তারপর দিগন্ত বড় হলো।

01

ভারত

02

নেপাল

03

থাইল্যান্ড

04

মালয়েশিয়া

05

সিঙ্গাপুর

06

দুবাই

তারপর গানটা আর তাঁর একার রইল না।

লেখা হয়েছিল একা, এক ঘরে। ফিরে এল মাঠভরা মানুষের কণ্ঠে।

দুটি খিলানওয়ালা জানালার মাঝে মঞ্চে এক গায়ক, এক হাত তোলা; সামনে দর্শক ফোনে ভিডিও করছে।
খিলানের মাঝেসামনের সারি মঞ্চটা ভিডিও করছে
লাল আলোয় ঠাসা ভিড়, ভিডিও করতে ফোন উঁচিয়ে।
ফোন উঁচিয়েলাল আলোর নিচে ভিডিও করছে ভিড়
অন্ধকার পটভূমিতে সরষে রঙের শার্ট পরা এক গায়ক মাইক্রোফোনে গাইছেন, অন্য হাত বাড়ানো।
হাত বাড়িয়েএক হাতে মাইক্রোফোন, অন্য হাত বাড়ানো
মঞ্চে, পেছন থেকে দেখা: রাতে খোলা জায়গার বিশাল দর্শকের দিকে দুই হাত মেলে, উঠছে লাল ধোঁয়া।
দুই হাত মেলেরাতে, মাঠভরা মানুষ
সাদাকালো একটি সেলফি, মুখে হাসি, পেছনে হাত তুলছে দর্শক।
হাত তুলেপেছনে দর্শক রেখে একটি সেলফি
সানগ্লাস আর নেভি শার্ট পরা এক গায়ক মাইক্রোফোনে গাইছেন, পাশে এক ভক্ত ফোন উঁচিয়ে ধরে আছেন।
খুব কাছেহাতের নাগালের দূরত্ব থেকে ভিডিও করছেন এক ভক্ত
পেছন থেকে দেখা, সাদা শার্টে, সামনে বসা বিশাল দর্শক, মাথার ওপরে নীল আলো।
তাঁদের মুখোমুখিআলোর নিচে বসে থাকা দর্শক
বেগুনি মঞ্চ-আলোয় মাইক্রোফোনের ওপর ঝুঁকে এক গায়ক, চারপাশের মঞ্চ অন্ধকার।
মাইকের কাছেবেগুনি আলোয় মাইক্রোফোনের ওপর ঝুঁকে
লাইফ জ্যাকেট পরে বোঝাই নৌকায় তাসরিফ, পেছনে মানুষভরা আরেকটি নৌকা।

তারপর দেশের দরকার হলো আমাদের।

আমরা গেয়েছি, ঘুরেছি, ভালো কিছু বছর কাটিয়েছি।

তারপর আবহাওয়া বদলাল। দুর্যোগ এখন আরও ঘন ঘন আসে, সারা পৃথিবীতেই — আর আমাদের দেশকে তার ভাগের চেয়ে বেশিই সইতে হয়।

করোনা। ২০২২-এর বন্যা। এমন কিছু দূর থেকে কেউ বোঝে না।

তারপর থেকে আমরা থামিনি। প্রস্তুত থাকি, একে অন্যকে শক্ত রাখি, আর চেষ্টা করে যাই — নিজেদের চারপাশকে যেমন পেয়েছিলাম, তার চেয়ে ভালো করে রেখে যেতে।

বাইশের বন্যা-র প্রচ্ছদ।

সময় তখন রাত বারোটার কাছাকাছি। সারাদিন ধরে ৭৫০ বস্তা ত্রাণ বিতরণ শেষে, দিরাইয়ে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে ফিরছি। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ত্রাণের বস্তায় হেলান দিয়ে ঝিমাচ্ছিলাম, কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিল খেয়াল নেই। হঠাৎ প্রিয়ত আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বললো যে, আমাদের পেছনে ডাকাত তাড়া করছে। আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। প্রচণ্ড বুক কাঁপছে আমার। ডানে-বামে তাকিয়ে দেখি চারপাশটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। মাঝিকে ডেকে বললাম যে মামা পেছনে টর্চ জ্বালান। টর্চের আলোয় দেখলাম মাঝবয়সী অনেকগুলো লোক ট্রলারের মধ্যে বাঁশ, ধারালো দা হাতে দাঁড়িয়ে আছে। আমার বুঝতে বাকি রইলো না ট্রলারগুলো যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে বড়জোড় আর দশ মিনিট সময় লাগবে আমাদের ট্রলারটা ধরতে। আমি সেনাবাহিনীকে অনবরত ফোন করতে থাকলাম কিন্তু কোন নেটওয়ার্ক পাচ্ছি না। হঠাৎ মাঝি আমাদের ডেকে বললো, আপনেরা একটা পলিথিনের মধ্যে আপনেগো মোবাইল আর টাকা-পয়সা একসাথে কইরা রাইখা দেন; নাইলে আইজ আর কেউ বাঁইচা ফিরতে পারবেন না!

বাইশের বন্যা : তাসরিফ ও তাঁর বন্ধুরা

কথা হচ্ছিলো অঞ্জন হাসান পবনের সঙ্গে। পবন কিংবদন্তী পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী। তাঁকে জিজ্ঞেস করছিলাম। তেইশের একুশে বইমেলার প্রস্তুতি কেমন। কটি বই বের হচ্ছে, কারা লিখছেন।

প্রস্তুতি অনেক ভালো। বেশ কটি নতুন বই আনছি। তবে একটি বই নিয়ে খুব আশাবাদী।

কোন বই?

বাইশের বন্যা।

কী ধরনের বই? কে লেখক?

সত্য ঘটনা নিয়ে লেখা গল্পগ্রন্থ। তাসরিফ খান লিখেছেন।

তাসরিফ খান কে?

তরুণ সঙ্গীতশিল্পী। অনেক ভালো মনের মানুষ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অনলাইন বুকশপ এবং লাইব্রেরি থেকে এই বইয়ের বিশ হাজার কপির প্রি-অর্ডার পেয়েছি।

বিশ হাজার কপি?

জি, স্যার। বিশ হাজার কপি ক্রয়ের অর্ডার দিয়েছেন ক্রেতারা। রকমারি ডট কম-এ প্রি-অর্ডার শুরু হওয়ার প্রথম দুই দিনেই এই বইটি রকমারির প্রি-অর্ডার ইতিহাসের সকল রেকর্ড চূর্ণ-বিচূর্ণ করে।

এ তো অসাধারণ ব্যাপার।

পাশে ছিলেন অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের একজন বিক্রয়কর্মী। তিনি কদিন আগে শেষ হওয়া যশোহর বইমেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি জানালেন, সেখানে অনেকে বাইশের বন্যা কিনতে চেয়েছেন। না পেয়ে জানতে চেয়েছেন কবে বের হবে।

আমি বললাম, তার মানে এই বই নিয়ে এক ধরনের ক্রেজ তৈরি হয়েছে। আমি কী একটু পাণ্ডুলিপিটা দেখতে পারি? যে বই নিয়ে এতো আগ্রহ কী আছে তাতে।

পবন বললেন, শিওর স্যার। আমি কালই পাঠাচ্ছি। তবে অনুরোধ, আপনি একটি ‘ভূমিকা’ লিখে দেন।

যে বই কিনতে মানুষের এতো আগ্রহ সেটির ভূমিকা আমি কী লিখব!

প্লিজ স্যার, আপনি লিখে দিলে খুব উপকার হবে।

মনে হলো, আমি নিজেই নিজের জন্য একখান সমস্যা ডেকে আনলাম। নিজের কাজে ব্যস্ত। যেসব কাজের দায়িত্ব নিয়েছি সেগুলোই শেষ করতে পারছি না। এর মধ্যে অন্যের একটি পাণ্ডুলিপি পড়তে হবে। আবার তা নিয়ে লিখতেও হবে। তবে একটু ক্ষীণ আশা যে, পবন হয়তো সময় মতো পাঠাতে পারবেন না। আমিও বেঁচে যাবো। কিন্তু তিনি সময়-অনুবর্তী। বলা যায়, একটু বেশিই। নির্ধারিত সময়ের আগেই এলেন। তবে পাণ্ডুলিপি হাতে পেয়ে ভালো লাগলো যে, খুব বড়ো নয়। মাত্র ৯৬ পৃষ্ঠার। দ্রুতই শেষ করতে পারবো।

পানিতে আগুন

নৌকার ইঞ্জিনে আগুন ধরতেই আমি শ্রাবনের দিকে তাকিয়ে ইশারায় বুঝতে চাইছি লাফ দিব কি দিব না। আমার মুখে কোনো কথা আসছে না, হাত-পা কেমন যেন জড়িয়ে যাচ্ছে। ভাবারও সময় নেই। বেশি হলে আর একটা মিনিট পাব। দেখতে দেখতে নৌকাটা ভয়ংকর একটা পাকের দিকে চলে যাচ্ছে। এই ঝড়ের মধ্যে মাঝি আপ্রাণ চেষ্টা করছে নৌকাটা ঘুরাতে কিন্তু তার সব চেষ্টাই যেন ব্যর্থ! মাঝির ছোটো ছেলেটা প্রচণ্ড ভয়ে নৌকার একটা বাঁশ ডান হাতে শক্ত করে ধরে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে কাঁপছে। রুবেল চিৎকার করে ‘নৌকা ঘুরান’ বলতে বলতে মাঝির দিকে এগিয়ে গেলো।

বাইশের বন্যা ◆ ১৩

আমার মাথায় তখন কিছুই কাজ করছে না। কেমন যেন অনুভূতিশূন্য হয়ে যাচ্ছি। আগুনটা যদি বেড়ে যায় তাহলে আমরা পুড়ে মরবো আর লাফ দিলে ডুবে মরবো। চোখে আম্মু আর তানজীবের ছবিটাই ভাসছিলো বারবার। আম্মু সিলেটে আসার আগে দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে আমায় বলেছিলো, ‘সাবধানে ফিরে আসিস বাবা’। পাকের ভেতরে নৌকাটা যাবার ঠিক আগ মুহূর্তে আমার মনে হলো, আম্মুর কাছে বোধ হয় আর ফিরতে পারলাম না।

সিলেটের বন্যায় কাজ করতে যাবার সিদ্ধান্তটা আমি নিয়েছিলাম মূলত ২০২২ সালের মে মাসের বিশ তারিখে। সেদিন দুপুরে ঘুম থেকে উঠেছিলাম বেশ দেরি করে। আম্মু খাওয়ার জন্য ডাকছে কিন্তু আমার পেটে ক্ষুধার ছিটেফোঁটাও নেই। আমি আসলে ঘুম থেকে উঠেই সাথে সাথে কিছু খেতে পারি না। বরাবরের মতোই বিছানায় শুয়ে-বসে ঘণ্টাখানেক ধরে ফেসবুকের নিউজফিডে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম। হঠাৎ একটা পত্রিকার খবর সামনে আসলো– সিলেটের কিছু অঞ্চলে বন্যা হয়েছে এবং বেশ কিছু অঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগের কবলে পড়েছে। খবরটা পড়ে বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে ভাবলাম কী করা যায়।

বাইশের বন্যা ◆ ১৪

আমি চাইলেও এই মুহূর্তে সিলেটে যেতে পারছি না। কারণ, জীবনে প্রথমবারের মতো আমার একটা কনসার্ট এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে যা একেবারেই কনফার্ম। এই কনসার্টের জন্য ভিসা করতেও অনেক বেগ পেতে হয়েছে। যাক, সে কথায় আর না যাই। আমি শুয়ে শুয়ে নানান রকম ছক কষছি সিলেটে কবে যাওয়া যায়, কীভাবে যাওয়া যায় ইত্যাদি। এমন সময়ে গিটার হাতে তানজীব রুমে এলো কী যেন একটা কথা বলতে। ও কথা শুরু করার আগেই আমি বলে উঠলাম,

শোন সিলেটে তো বন্যা হইতেছে। কী করা যায় বলতো?

তানজীব গিটারটা একটা চেয়ারে কাত করে রেখে খাটের কোণায় বসে আমাকে উলটো প্রশ্ন করলো,

কী করতে চাও?

বাইশের বন্যা ◆ ১৪

পাতা ওল্টাতে স্ক্রল করুন, অথবা পাতায় ক্লিক করুন।

গল্পের সেই অংশটা এরপর।

সিলেট, ২০২২

দিনগুলো রয়ে গেল। গল্পগুলোও।

সপ্তাহের পর সপ্তাহ, টিমের সঙ্গে, জলের মধ্যে — সেই জলেই যাঁদের বসবাস, তাঁদের পাশে। কোনো সফর নয় — পরদিন সকালে আবার বেরিয়েছে সেই একই নৌকা, আর তার আগে প্যাক করার সেই একই মেঝে।S03

নৌকায় ত্রাণসামগ্রীর পাশে তাসরিফ, ইউনিফর্ম পরা একজনের সঙ্গে কথা বলছেন।
কোথায় যাবে, আর কার কাছে এর মধ্যেই পৌঁছানো গেছে — তার হিসাব।
মাথায় বস্তা নিয়ে বন্যায় ডোবা গলি পেরোচ্ছেন তাসরিফ, পেছনে উজ্জ্বল রঙের ভেস্ট পরা মানুষের সারি।
শেষ পথটুকু সব সময় বয়ে নিতে হয়।
উজ্জ্বল রঙের ভেস্ট আর ক্যামোফ্লাজ ইউনিফর্ম পরা মানুষেরা নৌকার পাশে জড়ো হয়েছেন।
সেদিন যাঁরা বেরিয়েছিলেন, সবাই।
লাইফ জ্যাকেট পরে বন্যার জলে নৌকায় চলেছেন তাসরিফ।
যেখানে একসময় রাস্তা ছিল, তার ওপর দিয়ে।
লাইফ জ্যাকেট পরে বোঝাই নৌকায় তাসরিফ, পেছনে খোলা জলে মানুষভরা আরেকটি নৌকা।
পেছনে আরেকটি নৌকা, সামনে একদিনের পথ।
চালের বস্তা আর ছড়ানো পেঁয়াজের মাঝে হলঘরের মেঝেতে বসে ব্যাগ ভরছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা।
কিছু ভাসানোর আগে: একটা মেঝে, কয়েকটা বস্তা, আর যাঁরা এসেছিলেন, সবাই।
বোঝাই একটি ট্রাকের সামনে দাঁড়িয়ে একদল মানুষ — কারও গায়ে উজ্জ্বল ভেস্ট, কারও ক্যামোফ্লাজ ইউনিফর্ম।
একটি ট্রাক, আর যাঁরা সেটি ভরেছিলেন।

এটি ছিল সম্মিলিত চেষ্টা। তাসরিফের বিবরণের পাশেই থাকে তাঁর টিম আর যাঁদের সঙ্গে তাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের অবদান — আর তাঁর বিবরণটি এই পাতার ওপরের বইটি।

আর তা থামেনি

একটি দিন। একটি ইচ্ছে।

ইচ্ছেপূরণ একটি শিশু বা কোনো কমিউনিটির সঙ্গে একটি দিন কাটায়, ঠিক যা তারা চেয়েছিল তা-ই করে: বাজারে যাওয়া, নতুন জামা, দেরি পর্যন্ত চলা খেলা, একসঙ্গে বসে খাওয়া। অসাধারণ কিছু নয়। সেটাই আসল কথা।

  • বাজারে জামা বাছাই
  • দেরি পর্যন্ত গড়ানো খেলার বিকেল
  • একসঙ্গে খেতে বসা

ইচ্ছেপূরণ · পর্ব ০২কুঁড়েঘরের প্রকাশনা · ১ এপ্রিল ২০২১

হাতে আঁকা ‘ইচ্ছা পুরণ’ লেখা সাইনবোর্ডের নিচে, মালপত্রে সাজানো ছোট্ট এক গ্রামের দোকানের সামনে তাসরিফ।
ইচ্ছা পুরণ, এপ্রিল ২০২৪। মাথার ওপর ছাদওয়ালা একটি ইচ্ছে।S05

যে কথাটি হয়ে উঠল কাজের ধরন

আমরা চাইলেই সম্ভব

Amra Chailei ShomvobIf we want to, it is possible.

এই কটি শব্দেই ধরা আছে তাসরিফের কাজের ধরন। করোনার সময় এর মানে ছিল সেই মানুষদের পাশে দাঁড়ানো, যাঁরা অন্য কেউ এগিয়ে আসার অপেক্ষায় বসে থাকেননি। মানে আজও একই: চাওয়া আর করার মাঝের দূরত্ব কমে আসে, যখন আমরা তা একসঙ্গে পেরোই।

এটি আগে করা কাজের বিবরণ, এখনকার সাহায্যের আবেদনের ডাক নয়।

উজ্জ্বল রঙের ভেস্ট আর ক্যামোফ্লাজ ইউনিফর্ম পরা মানুষেরা নৌকার পাশে জড়ো হয়েছেন।

ডাক

একসঙ্গে ছাড়া পার হওয়ার আর পথ নেই।

সামনে যা-ই আসুক, আমরা তা আপনার সঙ্গেই গড়তে চাই।

এটি সাহায্যের আবেদনের জায়গা নয়।